Monday, April 27, 2015

বড় ভূমিকম্পের পরে

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অতি সাধারণ মানুষের জীবনের মান নেমে যাচ্ছে। তাদের থাকা খাওয়া, চিকিৎসা, শিক্ষার মান নেমে যাচ্ছে। এমনকি যাতায়াত ব্যবস্থায় কষ্ট বেড়েছে। এর ফলে মানুষে মানুষে দূরত্ব বেড়েছে, অভিমান বেড়েছে, ক্ষোভ বেড়েছে বা বাড়ছে। বাড়ছে সাধারন মানুষের দীর্ঘশ্বাস! অথচ গ্রামে গ্রামে উন্নত রাস্তা হয়েছে কিন্তু উপেক্ষে বেড়েছে অতি সাধারণ মানুষের প্রতি। এর বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষ কমে যাচ্ছে দ্রুত।এই উপেক্ষার ফলে সাধারণ মানুষের মন থেকে উঠে যাচ্ছে দয়া মায়া। তাদের ক্ষোব বাড়ছে। আসুন এবার আমরা ভিন্ন একটি দিনের ছবি আঁকি। ধরা যাক, একটি বড় ভূমিকম্প যদি হয়, আমাদের আশ্রয় কোথায় হবে? আশ্রয় হবে বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে। ৭১ তাই হয়েছিল। শহরের মানূষগুলোকে আশ্রয় আর সাহায্য করেছিল গ্রামের মানুষগুলো। কিন্তু তখন তো গ্রামের মানুষের সাথে শহরের মানুষের সখ্যাতা ছিল, বন্ধুত্ব ,আত্মীয়তার বন্ধন ছিল। গ্রামের মানুষ ভাবত এরা তো আমাদেরই অংশ। তাই নিজেদের ঘর ছেড়ে দিয়েছে, দিয়েছে খাবার। কিন্তু আজ সেই সম্পর্ক নেই। শহরের মানুষ আজ অনেক বেশি শহরের। শহরের মানুষ এড়িয়ে চলে শহরের বাইরে থাকা মানুষদের। ফলে একটা বড় ভূমিকম্পে যারা বেঁচে যাবে তারা কি সেই ভাবে আশ্রয় পাবে ,যেভাবে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পেয়েছিল? সেই বন্ধন যে কত নীচে নেমেছে তা কি আমরা ভেবে দেখব না? ভেবে দেখার সময় হয়ে এসেছে। ভাবুন তো কোথায় যাবেন ,যখন শহরগুলো মৃতপুরী হয়ে যাবে। বড় ভুমিকূমিকম্প হলে এই চেনা শহর বদলে যাবে। খবার নেই ,পানি নেই,চিকিৎসা নেই, । কোথায় ঠাই মিলিবে যদি বেঁচে যাই? তাই ভেবে নিতে হবে আগেই যে বেঁচে যাবে তার কি করতে হবে। মনে রাখবেন, বড় ভূমিকম্পের পরও দেখা পাবেন মাঝিদের ঘাটে বা নদীর কাছাকাছি। নৌকাই তখন বড় বিষয় হয়ে উঠবে। যাদের আমরা উপেক্ষা করি তাদেরই পাশে পাব আমরা। তাই যে বেঁচে থাকবে নৌকায় করে চলে যেতে হবে গ্রামগুলোতে যেখানে খাবার আ্ছে, পানি জুটবে। এলোমেলো ভাবে সেই শহরে বা মৃত পুরীতে ঘুরে কোন লাভ নেই। যত বেশি সময় ঘুরবেন তোতো ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে যাবে জীবন। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রত্যেককেই যে নদী পার হতে হবে, গ্রামে যেতে হবে সেই দিন। তাই আসুন গ্রামের মানুষের সাথে মিতালী করি, ঘুরে বেড়াতে যাই, তাদের সুখে দুখে পাশে থাকি। গ্রামগুলোকে নিরাপদ করে তুলি। যার যেটুকু ক্ষমতা আছে, গ্রামগুলো সাজাই আবার। আসুন কবিতাটা আবার পড়ি --' তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে। আমাদের ছোট গাঁয়ে। গাছের ছায়ায়............।।'

Saturday, April 25, 2015

ভূমিকম্প আর আমরা

ভূমিকম্প হয়ে গেল। সবাই আতংকে ভুগেছি সেই সময়টা। আর বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভবনা রয়েছে। টিভিতে এ নিয়ে আলোচনা অনেকবার শুনেছি।  ভূমিকম্প বিষয়টা ছোট করে দেখার কিছু নেই। আর ভূমিকম্প যে কেবল দিনেই হবে তা তো না গভীর রাতেও হতে পারে!

ভূমিকম্প হলে প্রত্যেক পরিবারের জানা দরকার কি করতে হবে। কি কি করা উচিত। যেমন সেই সময়টায় একটি পরিবার বা একটি বাসায় যারা যারা থাকবেন তারা আশ্রয়ের জন্য কোন দিকে যাবেন, বাসার কোন স্থানটি বেশি নিরাপদ তা জানা থাকলে সবই একদিকে বা একজয়গার দিকে ছুটে যাবে। তাই এই বিষয়টি বুঝে আলোচনা করে নিতে হবে নিজেদের ভিত্র। ৪/৫ বছরের শিশু, কাজের লোক সবাইকে স্মান গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে এই কাজগুলো। এমনকি যে বুয়া একবেলা কাজ করে যায় তাকেও জানিয়ে দিতে হবে। বাড়ীর পিলারের নীচের মধ্যে কোনটির নীচে বা কাছে দাঁড়াতে হবে তা জানিয়ে দিতে হবে পরিবার বা বাসার সবাইকে। কারন ভূমিকম্প হলে আমরা এক একজন এক এক দিকে দৌড়ে যাই। কেউ খাটের নীচে, কেউ বাথ্রুমে, কেউ আলমারির নীচে। তাই আমার মনে হয় প্রত্যেক পরিবারে নিজেদের ভিত্র এ নিয়ে কিছু আলোচনার দরকার। আলোচনাটা আসলেই খুব জরুরী। দরকার হলে বার কয়েক এ নিয়ে রিহাসসেল করে নিতে হবে বিভিন্ন ঘর থেকে দৌড়ে এক জায়গায় আসার বিষয়ে।

সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই। বাড়ীতে দুই/তিন বালতি বালু রাখা খুব জরুরী। সবার যেমন ফায়ার সিস্টেম রাখার সামরথ নেই বা ব্যবহারের বিষয় জ্ঞান নেই। তাই আগুন লেগে গেলে দুই/ তিন বালতি বালুই আমাদেরকে আগুনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। বাড়ীর ছাদে বা নীচে এক কোনে বালতি করে বা ব্যগে  রেখে দেওয়া যেতে পারে।