ব্যক্তি মালিকাধীন উচু বিল্ডিং এ ঝুঁকি শতগুন বেশি হয়ে উঠেছে দেশে। কারন ব্যক্তি মালিকানা বিল্ডিং -এ স্বাধীন মতন কোন ইঞ্জিনীয়ারই কাজ করতে পারে না। লেবার থেকে শুরু করে ঠিকাদার, ইল্কেটিক মিস্ত্রী পরযন্ত সবাই মালিকদের কান পরা দিতে দিতে এক সময় লিন্ডিং এ ইঞ্জিনীয়ার বিদাই করে ঠিকাদার, ফোরম্যান রাই ইঞ্জিনীয়ার হয়ে উঠেন।খোজ খবর নিলে দেখবেন ৭০ % কাজ হবার আগে পরে ইঞ্জনীয়ারদের বাধ্যি করা হয় ,কাজ ছেড়ে দিবার। আর মালিক ঠিকাদাররা মিলে তখন ইচ্ছে মতন ডিজাইন আঁকেন। তবে, একটি বিল্ডিং করার ক্ষেত্রে অজ্ঞতা আরেকটি কারন।( এই ইল্কেটিনিক মিডিয়ার যুগে ইঞ্চিনীয়াররা এই বিষয়ে খোলামেলা কথা বলা দরকার। কারন যিনি টাকা পয়সা গুছিয়ে নিয়ে আসেন,তিনি শুরুতেই কাছের লোকদের খুজেন। ফলে তিনি শুরুতেই খুজে বের করেন ঠিকাদার কে। আর সেইখানে ভুলের সূচনাটার শুরু হয়। তাই সকল ইঞ্জিনীয়ারদের কাছে অনুরোধ, সাধারন মানুষের সীমিত জ্ঞান, তাদের এই ধরনের ভুল করা থেকে ফিরাতে আপনারা অনেক কিছুই করতে পারেন। এটার জন্য অনলাইনে ছড়িয়া দেওয়া যায় একজন মানুষ যখন চিন্তা ভাবনা করেন তখন আসলে কি কি করবেন। সয়েল টেস্টের আগে কি ডিজাইনের জন্য আরকিটেকের কাছে যাবেন ? বা আগে আরকিটেকের কাছে যাবেন নাকি ইঞ্জিনীয়ারের কাছে যাবেন ? ইলেক্টিক ইঞ্জিনীয়ারের কাছে কেন যাবেন ? এই যে কথা বা তথ্য সাধারন মাকনুষের কাছে পৌঁছানো অনেক অনেক প্রয়োজন। এই তথ্যগুলো অনলাইনে ,মিডিয়ায় প্রত্যেক সপ্তাহে রাত ১১টার পর হোক ,একটি অফিসে সার্ভিসের মাধ্যমে হোক, মানুষ কে জানাতে হবে কোথায় যেতে হবে ,কি কি করতে হবে। )
একজন মালিকের অজ্ঞতাই পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্থের মূল কারন। ্মালিকের দোষ ৬০% আর রাষ্ট্র বা ইঞ্জিনীয়ারদের সাথে মালিকের দুরুতব এর দোষ ৪০%,উন্নত দেশের দিকে পথ চলা বাংলাদেশের মানুষদের বিল্ডিং বিষয় তথ্য না জানানো ফল টা আজ হচ্ছে যে, একজন মালিক ৫ তলার লোড নিয়ে বানানো বিল্ডিং ৮ তলা করতে লোভী হয়ে উঠছে। মানুষদের এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকলে সোনার ডিম পারা হাঁস টা কেটে ফেলত না। এখন এই বিষয়ে জ্ঞান না রাখার ফলে , না জানতে চাওয়ার ফলে একের পর এক ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। এই জিনিষগুলো মানুষ কে বুযহাওতে তো হবে যে, ওজন নিবার ক্ষমতা যদি ৫ তলার কিন্তু তার উপর যদি ২/৩ তলা বাড়ানো হয় ,তবে ওজনের জন্য ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে উঠবেই। কারন লোড নিবার ক্ষমতা অংক হিসাব করে বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। একজনের মাথায় যদি বেশি বোঝা উঠিয়ে দেওয়া হয় সে হয়ত তা নিয়ে ৫ মিনিটের পথ যেতে পারবে,তার পর বোঝা সহ পরে যাবে।
ইঞ্জিনীয়ারদেরই সাধারন মানুষ কে বুঝাতে হবে যে,কেবল ওজন সহ্য না কারনে আজ সাভারের রানা গারমেন্স এর বিল্ডিং পরে গেল, আর এর নীচে চাপা পরে মানুষ মারা গেল। বিল্ডিং কোড যারা মানেনি ,তাদের চেয়ে শতগুন ঝুঁকি রয়েছে তলা বাড়ানোর বিষয়টি। লোড ৫ তলা আপনি এটাকে উপরে বাড়াতে কিছুতেই পারেন না। কারন খুব সোজা হিসাব,প্রতিটা ছাদের ওজন ধরে রাখার বিষয়টা নির্ভর করে লম্বালম্বি রডের উপর বা খাড়া বড়ের পিলারের উপর। এটাকে জোর করে তা বাড়াতে গেলে বাড়তি ওজন সেই বিল্ডিং এর বিপদ তো ডেকে আনবেই। আর ভূমিকম্পের বিষয়টা মাথায় রাখা চাই, হোক তা ছোট ছোট ভূমিকম্প ,ধবাক্কা তো ভূমিকম্প দিয়ে যাচ্ছেই। কোন ইঞ্জিনীয়ার এই বিষয়টাকে সামরথ্যন করতে পারে না। কারন বিল্ডিং তাদের সন্তানের মতন।
ঠিকাদার ,মিস্ত্রীর কাজের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তারা যদি তাদের কাজের সীমানা মেনে চলে তবে এ দেশে অনেক বিপদ কম হবে। কিন্তু তাদের অনেকেই বলে ,'' কত দেখলাম এমন ইঞ্জিনীয়ার।'' আমি ইঞ্জিনীয়ার নই,কিন্তু বাড়ি করতে গিয়ে অভিজ্ঞতা আর অনেক বাড়ি দেখে আলাপ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। খুব কাছ থেকে অনেক অনেক বিল্ডিং এর কাজ দেখেছি, পুড়ানো বিল্ডিং ভাঙ্গার কাজ ও দেখেছি। আমাদের আছে হাজার হাজার দক্ষ শ্রমিক কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ,মালিকরা, ঠিকাদারেরা, ফরম্যানেরা ইঞ্জিনীয়ার হয়ে উঠাটা। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু উন্নতির সাথে শিক্ষা বা উপযুক্ত জ্ঞানের অভাব তা বাড়ছে না। তাই এগিয়ে আসতে হবে ইঞ্জিনীয়ারদেরই। তাদের সিডি ,অনলাইন, মিডিয়ার মাধ্যমে জানাতে হবে ,কেন কোথায় যেতে হবে।
বাংলাদেশে উচু উচু বিল্ডিং করার বিষয়ে আমাদের অনেক বিশ্বমানের দক্ষ ইঞ্জিনীয়ার আছেন। ঢাকা শহরে অনেক নজরকাড়া উচু উচু বিল্ডিং হচ্ছে। বিপদ এখানে হানা দিতে কখনো সহজে পারবে না আল্লাহর রহমতে। কারন এই কাজ অভিজ্ঞতা দিয়ে করা ,বিশেষজ্ঞদের অংক কষে কষে করা। আসলে যার যে কাজ সেই কাজে তাকে সম্মানের সাথে করতে দিলে সেটা সব সময় মজবুত হয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে মিডিয়াগুলোতে যদি আমাদের মতন সাধারন মানুষ কে বুঝান হয়। তবে উদায়মান এই দেশটিতে অনেক কিছুই বদলে যাবে।
বাংলাদেশে উচু উচু বিল্ডিং করার বিষয়ে আমাদের অনেক বিশ্বমানের দক্ষ ইঞ্জিনীয়ার আছেন। ঢাকা শহরে অনেক নজরকাড়া উচু উচু বিল্ডিং হচ্ছে। বিপদ এখানে হানা দিতে কখনো সহজে পারবে না আল্লাহর রহমতে। কারন এই কাজ অভিজ্ঞতা দিয়ে করা ,বিশেষজ্ঞদের অংক কষে কষে করা। আসলে যার যে কাজ সেই কাজে তাকে সম্মানের সাথে করতে দিলে সেটা সব সময় মজবুত হয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে মিডিয়াগুলোতে যদি আমাদের মতন সাধারন মানুষ কে বুঝান হয়। তবে উদায়মান এই দেশটিতে অনেক কিছুই বদলে যাবে।
ইঞ্জিনীয়ারা এগিয়ে আসতে হবেই হবে। ইঞ্জিনীয়ারা এগিয়ে এলে হয়ত বিল্ডিং মালিকরা নিজেদের উদ্যাগে পারমিশনের অতিরিক্ত বা বাড়তি তলাটা ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে আলাপ করে ভেঙ্গে ফেলার কাজ হাত দিতে এগিয়ে আসবেন। কারন একটি সোনার ডিম পারা হাঁস যদি মেরে ফেলি বা মরেই যায় , ভেঙ্গেই পরে তবে তো সবই গেল। তাই না?

No comments:
Post a Comment