দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অতি সাধারণ মানুষের জীবনের মান নেমে যাচ্ছে। তাদের থাকা খাওয়া, চিকিৎসা, শিক্ষার মান নেমে যাচ্ছে। এমনকি যাতায়াত ব্যবস্থায় কষ্ট বেড়েছে। এর ফলে মানুষে মানুষে দূরত্ব বেড়েছে, অভিমান বেড়েছে, ক্ষোভ বেড়েছে বা বাড়ছে। বাড়ছে সাধারন মানুষের দীর্ঘশ্বাস! অথচ গ্রামে গ্রামে উন্নত রাস্তা হয়েছে কিন্তু উপেক্ষে বেড়েছে অতি সাধারণ মানুষের প্রতি। এর বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষ কমে যাচ্ছে দ্রুত।এই উপেক্ষার ফলে সাধারণ মানুষের মন থেকে উঠে যাচ্ছে দয়া মায়া। তাদের ক্ষোব বাড়ছে। আসুন এবার আমরা ভিন্ন একটি দিনের ছবি আঁকি। ধরা যাক, একটি বড় ভূমিকম্প যদি হয়, আমাদের আশ্রয় কোথায় হবে? আশ্রয় হবে বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে। ৭১ তাই হয়েছিল। শহরের মানূষগুলোকে আশ্রয় আর সাহায্য করেছিল গ্রামের মানুষগুলো। কিন্তু তখন তো গ্রামের মানুষের সাথে শহরের মানুষের সখ্যাতা ছিল, বন্ধুত্ব ,আত্মীয়তার বন্ধন ছিল। গ্রামের মানুষ ভাবত এরা তো আমাদেরই অংশ। তাই নিজেদের ঘর ছেড়ে দিয়েছে, দিয়েছে খাবার। কিন্তু আজ সেই সম্পর্ক নেই। শহরের মানুষ আজ অনেক বেশি শহরের। শহরের মানুষ এড়িয়ে চলে শহরের বাইরে থাকা মানুষদের। ফলে একটা বড় ভূমিকম্পে যারা বেঁচে যাবে তারা কি সেই ভাবে আশ্রয় পাবে ,যেভাবে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পেয়েছিল? সেই বন্ধন যে কত নীচে নেমেছে তা কি আমরা ভেবে দেখব না? ভেবে দেখার সময় হয়ে এসেছে। ভাবুন তো কোথায় যাবেন ,যখন শহরগুলো মৃতপুরী হয়ে যাবে। বড় ভুমিকূমিকম্প হলে এই চেনা শহর বদলে যাবে। খবার নেই ,পানি নেই,চিকিৎসা নেই, । কোথায় ঠাই মিলিবে যদি বেঁচে যাই? তাই ভেবে নিতে হবে আগেই যে বেঁচে যাবে তার কি করতে হবে। মনে রাখবেন, বড় ভূমিকম্পের পরও দেখা পাবেন মাঝিদের ঘাটে বা নদীর কাছাকাছি। নৌকাই তখন বড় বিষয় হয়ে উঠবে। যাদের আমরা উপেক্ষা করি তাদেরই পাশে পাব আমরা। তাই যে বেঁচে থাকবে নৌকায় করে চলে যেতে হবে গ্রামগুলোতে যেখানে খাবার আ্ছে, পানি জুটবে। এলোমেলো ভাবে সেই শহরে বা মৃত পুরীতে ঘুরে কোন লাভ নেই। যত বেশি সময় ঘুরবেন তোতো ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে যাবে জীবন। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রত্যেককেই যে নদী পার হতে হবে, গ্রামে যেতে হবে সেই দিন। তাই আসুন গ্রামের মানুষের সাথে মিতালী করি, ঘুরে বেড়াতে যাই, তাদের সুখে দুখে পাশে থাকি। গ্রামগুলোকে নিরাপদ করে তুলি। যার যেটুকু ক্ষমতা আছে, গ্রামগুলো সাজাই আবার। আসুন কবিতাটা আবার পড়ি --' তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে। আমাদের ছোট গাঁয়ে। গাছের ছায়ায়............।।'
friend of fire
Monday, April 27, 2015
Saturday, April 25, 2015
ভূমিকম্প আর আমরা
ভূমিকম্প হয়ে গেল। সবাই আতংকে ভুগেছি সেই সময়টা। আর বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভবনা রয়েছে। টিভিতে এ নিয়ে আলোচনা অনেকবার শুনেছি। ভূমিকম্প বিষয়টা ছোট করে দেখার কিছু নেই। আর ভূমিকম্প যে কেবল দিনেই হবে তা তো না গভীর রাতেও হতে পারে!
ভূমিকম্প হলে প্রত্যেক পরিবারের জানা দরকার কি করতে হবে। কি কি করা উচিত। যেমন সেই সময়টায় একটি পরিবার বা একটি বাসায় যারা যারা থাকবেন তারা আশ্রয়ের জন্য কোন দিকে যাবেন, বাসার কোন স্থানটি বেশি নিরাপদ তা জানা থাকলে সবই একদিকে বা একজয়গার দিকে ছুটে যাবে। তাই এই বিষয়টি বুঝে আলোচনা করে নিতে হবে নিজেদের ভিত্র। ৪/৫ বছরের শিশু, কাজের লোক সবাইকে স্মান গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে এই কাজগুলো। এমনকি যে বুয়া একবেলা কাজ করে যায় তাকেও জানিয়ে দিতে হবে। বাড়ীর পিলারের নীচের মধ্যে কোনটির নীচে বা কাছে দাঁড়াতে হবে তা জানিয়ে দিতে হবে পরিবার বা বাসার সবাইকে। কারন ভূমিকম্প হলে আমরা এক একজন এক এক দিকে দৌড়ে যাই। কেউ খাটের নীচে, কেউ বাথ্রুমে, কেউ আলমারির নীচে। তাই আমার মনে হয় প্রত্যেক পরিবারে নিজেদের ভিত্র এ নিয়ে কিছু আলোচনার দরকার। আলোচনাটা আসলেই খুব জরুরী। দরকার হলে বার কয়েক এ নিয়ে রিহাসসেল করে নিতে হবে বিভিন্ন ঘর থেকে দৌড়ে এক জায়গায় আসার বিষয়ে।
সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই। বাড়ীতে দুই/তিন বালতি বালু রাখা খুব জরুরী। সবার যেমন ফায়ার সিস্টেম রাখার সামরথ নেই বা ব্যবহারের বিষয় জ্ঞান নেই। তাই আগুন লেগে গেলে দুই/ তিন বালতি বালুই আমাদেরকে আগুনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। বাড়ীর ছাদে বা নীচে এক কোনে বালতি করে বা ব্যগে রেখে দেওয়া যেতে পারে।
ভূমিকম্প হলে প্রত্যেক পরিবারের জানা দরকার কি করতে হবে। কি কি করা উচিত। যেমন সেই সময়টায় একটি পরিবার বা একটি বাসায় যারা যারা থাকবেন তারা আশ্রয়ের জন্য কোন দিকে যাবেন, বাসার কোন স্থানটি বেশি নিরাপদ তা জানা থাকলে সবই একদিকে বা একজয়গার দিকে ছুটে যাবে। তাই এই বিষয়টি বুঝে আলোচনা করে নিতে হবে নিজেদের ভিত্র। ৪/৫ বছরের শিশু, কাজের লোক সবাইকে স্মান গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে এই কাজগুলো। এমনকি যে বুয়া একবেলা কাজ করে যায় তাকেও জানিয়ে দিতে হবে। বাড়ীর পিলারের নীচের মধ্যে কোনটির নীচে বা কাছে দাঁড়াতে হবে তা জানিয়ে দিতে হবে পরিবার বা বাসার সবাইকে। কারন ভূমিকম্প হলে আমরা এক একজন এক এক দিকে দৌড়ে যাই। কেউ খাটের নীচে, কেউ বাথ্রুমে, কেউ আলমারির নীচে। তাই আমার মনে হয় প্রত্যেক পরিবারে নিজেদের ভিত্র এ নিয়ে কিছু আলোচনার দরকার। আলোচনাটা আসলেই খুব জরুরী। দরকার হলে বার কয়েক এ নিয়ে রিহাসসেল করে নিতে হবে বিভিন্ন ঘর থেকে দৌড়ে এক জায়গায় আসার বিষয়ে।
সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই। বাড়ীতে দুই/তিন বালতি বালু রাখা খুব জরুরী। সবার যেমন ফায়ার সিস্টেম রাখার সামরথ নেই বা ব্যবহারের বিষয় জ্ঞান নেই। তাই আগুন লেগে গেলে দুই/ তিন বালতি বালুই আমাদেরকে আগুনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। বাড়ীর ছাদে বা নীচে এক কোনে বালতি করে বা ব্যগে রেখে দেওয়া যেতে পারে।
Saturday, April 27, 2013
সোনার ডিম ( Egg of Gold )
ব্যক্তি মালিকাধীন উচু বিল্ডিং এ ঝুঁকি শতগুন বেশি হয়ে উঠেছে দেশে। কারন ব্যক্তি মালিকানা বিল্ডিং -এ স্বাধীন মতন কোন ইঞ্জিনীয়ারই কাজ করতে পারে না। লেবার থেকে শুরু করে ঠিকাদার, ইল্কেটিক মিস্ত্রী পরযন্ত সবাই মালিকদের কান পরা দিতে দিতে এক সময় লিন্ডিং এ ইঞ্জিনীয়ার বিদাই করে ঠিকাদার, ফোরম্যান রাই ইঞ্জিনীয়ার হয়ে উঠেন।খোজ খবর নিলে দেখবেন ৭০ % কাজ হবার আগে পরে ইঞ্জনীয়ারদের বাধ্যি করা হয় ,কাজ ছেড়ে দিবার। আর মালিক ঠিকাদাররা মিলে তখন ইচ্ছে মতন ডিজাইন আঁকেন। তবে, একটি বিল্ডিং করার ক্ষেত্রে অজ্ঞতা আরেকটি কারন।( এই ইল্কেটিনিক মিডিয়ার যুগে ইঞ্চিনীয়াররা এই বিষয়ে খোলামেলা কথা বলা দরকার। কারন যিনি টাকা পয়সা গুছিয়ে নিয়ে আসেন,তিনি শুরুতেই কাছের লোকদের খুজেন। ফলে তিনি শুরুতেই খুজে বের করেন ঠিকাদার কে। আর সেইখানে ভুলের সূচনাটার শুরু হয়। তাই সকল ইঞ্জিনীয়ারদের কাছে অনুরোধ, সাধারন মানুষের সীমিত জ্ঞান, তাদের এই ধরনের ভুল করা থেকে ফিরাতে আপনারা অনেক কিছুই করতে পারেন। এটার জন্য অনলাইনে ছড়িয়া দেওয়া যায় একজন মানুষ যখন চিন্তা ভাবনা করেন তখন আসলে কি কি করবেন। সয়েল টেস্টের আগে কি ডিজাইনের জন্য আরকিটেকের কাছে যাবেন ? বা আগে আরকিটেকের কাছে যাবেন নাকি ইঞ্জিনীয়ারের কাছে যাবেন ? ইলেক্টিক ইঞ্জিনীয়ারের কাছে কেন যাবেন ? এই যে কথা বা তথ্য সাধারন মাকনুষের কাছে পৌঁছানো অনেক অনেক প্রয়োজন। এই তথ্যগুলো অনলাইনে ,মিডিয়ায় প্রত্যেক সপ্তাহে রাত ১১টার পর হোক ,একটি অফিসে সার্ভিসের মাধ্যমে হোক, মানুষ কে জানাতে হবে কোথায় যেতে হবে ,কি কি করতে হবে। )
একজন মালিকের অজ্ঞতাই পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্থের মূল কারন। ্মালিকের দোষ ৬০% আর রাষ্ট্র বা ইঞ্জিনীয়ারদের সাথে মালিকের দুরুতব এর দোষ ৪০%,উন্নত দেশের দিকে পথ চলা বাংলাদেশের মানুষদের বিল্ডিং বিষয় তথ্য না জানানো ফল টা আজ হচ্ছে যে, একজন মালিক ৫ তলার লোড নিয়ে বানানো বিল্ডিং ৮ তলা করতে লোভী হয়ে উঠছে। মানুষদের এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকলে সোনার ডিম পারা হাঁস টা কেটে ফেলত না। এখন এই বিষয়ে জ্ঞান না রাখার ফলে , না জানতে চাওয়ার ফলে একের পর এক ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। এই জিনিষগুলো মানুষ কে বুযহাওতে তো হবে যে, ওজন নিবার ক্ষমতা যদি ৫ তলার কিন্তু তার উপর যদি ২/৩ তলা বাড়ানো হয় ,তবে ওজনের জন্য ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে উঠবেই। কারন লোড নিবার ক্ষমতা অংক হিসাব করে বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। একজনের মাথায় যদি বেশি বোঝা উঠিয়ে দেওয়া হয় সে হয়ত তা নিয়ে ৫ মিনিটের পথ যেতে পারবে,তার পর বোঝা সহ পরে যাবে।
ইঞ্জিনীয়ারদেরই সাধারন মানুষ কে বুঝাতে হবে যে,কেবল ওজন সহ্য না কারনে আজ সাভারের রানা গারমেন্স এর বিল্ডিং পরে গেল, আর এর নীচে চাপা পরে মানুষ মারা গেল। বিল্ডিং কোড যারা মানেনি ,তাদের চেয়ে শতগুন ঝুঁকি রয়েছে তলা বাড়ানোর বিষয়টি। লোড ৫ তলা আপনি এটাকে উপরে বাড়াতে কিছুতেই পারেন না। কারন খুব সোজা হিসাব,প্রতিটা ছাদের ওজন ধরে রাখার বিষয়টা নির্ভর করে লম্বালম্বি রডের উপর বা খাড়া বড়ের পিলারের উপর। এটাকে জোর করে তা বাড়াতে গেলে বাড়তি ওজন সেই বিল্ডিং এর বিপদ তো ডেকে আনবেই। আর ভূমিকম্পের বিষয়টা মাথায় রাখা চাই, হোক তা ছোট ছোট ভূমিকম্প ,ধবাক্কা তো ভূমিকম্প দিয়ে যাচ্ছেই। কোন ইঞ্জিনীয়ার এই বিষয়টাকে সামরথ্যন করতে পারে না। কারন বিল্ডিং তাদের সন্তানের মতন।
ঠিকাদার ,মিস্ত্রীর কাজের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তারা যদি তাদের কাজের সীমানা মেনে চলে তবে এ দেশে অনেক বিপদ কম হবে। কিন্তু তাদের অনেকেই বলে ,'' কত দেখলাম এমন ইঞ্জিনীয়ার।'' আমি ইঞ্জিনীয়ার নই,কিন্তু বাড়ি করতে গিয়ে অভিজ্ঞতা আর অনেক বাড়ি দেখে আলাপ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। খুব কাছ থেকে অনেক অনেক বিল্ডিং এর কাজ দেখেছি, পুড়ানো বিল্ডিং ভাঙ্গার কাজ ও দেখেছি। আমাদের আছে হাজার হাজার দক্ষ শ্রমিক কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ,মালিকরা, ঠিকাদারেরা, ফরম্যানেরা ইঞ্জিনীয়ার হয়ে উঠাটা। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু উন্নতির সাথে শিক্ষা বা উপযুক্ত জ্ঞানের অভাব তা বাড়ছে না। তাই এগিয়ে আসতে হবে ইঞ্জিনীয়ারদেরই। তাদের সিডি ,অনলাইন, মিডিয়ার মাধ্যমে জানাতে হবে ,কেন কোথায় যেতে হবে।
বাংলাদেশে উচু উচু বিল্ডিং করার বিষয়ে আমাদের অনেক বিশ্বমানের দক্ষ ইঞ্জিনীয়ার আছেন। ঢাকা শহরে অনেক নজরকাড়া উচু উচু বিল্ডিং হচ্ছে। বিপদ এখানে হানা দিতে কখনো সহজে পারবে না আল্লাহর রহমতে। কারন এই কাজ অভিজ্ঞতা দিয়ে করা ,বিশেষজ্ঞদের অংক কষে কষে করা। আসলে যার যে কাজ সেই কাজে তাকে সম্মানের সাথে করতে দিলে সেটা সব সময় মজবুত হয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে মিডিয়াগুলোতে যদি আমাদের মতন সাধারন মানুষ কে বুঝান হয়। তবে উদায়মান এই দেশটিতে অনেক কিছুই বদলে যাবে।
বাংলাদেশে উচু উচু বিল্ডিং করার বিষয়ে আমাদের অনেক বিশ্বমানের দক্ষ ইঞ্জিনীয়ার আছেন। ঢাকা শহরে অনেক নজরকাড়া উচু উচু বিল্ডিং হচ্ছে। বিপদ এখানে হানা দিতে কখনো সহজে পারবে না আল্লাহর রহমতে। কারন এই কাজ অভিজ্ঞতা দিয়ে করা ,বিশেষজ্ঞদের অংক কষে কষে করা। আসলে যার যে কাজ সেই কাজে তাকে সম্মানের সাথে করতে দিলে সেটা সব সময় মজবুত হয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে মিডিয়াগুলোতে যদি আমাদের মতন সাধারন মানুষ কে বুঝান হয়। তবে উদায়মান এই দেশটিতে অনেক কিছুই বদলে যাবে।
ইঞ্জিনীয়ারা এগিয়ে আসতে হবেই হবে। ইঞ্জিনীয়ারা এগিয়ে এলে হয়ত বিল্ডিং মালিকরা নিজেদের উদ্যাগে পারমিশনের অতিরিক্ত বা বাড়তি তলাটা ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে আলাপ করে ভেঙ্গে ফেলার কাজ হাত দিতে এগিয়ে আসবেন। কারন একটি সোনার ডিম পারা হাঁস যদি মেরে ফেলি বা মরেই যায় , ভেঙ্গেই পরে তবে তো সবই গেল। তাই না?
Monday, April 8, 2013
আগুন থেকে নিজেদের রক্ষার উপায় - পর্ব ১
আগুনে ক্ষতির ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। দিন
দিন বেড়ে যাচ্ছে। আগুন নিইয়ে একটি ঘটনা গল্পের মতন করে শেয়ার করছি। ঘটনা বেশ কিছু দিন আগের।
কোন এক শহরে এক ভদ্রলোক বাথরুমে পরে গিয়ে কোমড়ে ব্যাথা পেয়েছেন আগের দিন। পরের দিন তাদের আত্মীয়ের বিয়ে। বাসার সবাইকে যেতে হচ্ছে। তবুও উনার এক মেয়ে বাবার জন্য বাসায় রয়ে গেল।
তখনো সন্ধ্যা নামেনি। বাসায় বিদ্যুৎ নেই। আইপি এস এ কম পাওয়ারের লাইট টা জ্বলছে। ভদ্রলোক জানালার পর্দা সারালেন। কিছুটা আলো আছে। ভদ্রলোক সকালে দৈনিক খবরের কাগজ পড়তে পারে্ননি। তাই তিনি এ বেলায় খবরের কাগজ নিয়ে বসেছেন। ইংরেজী দৈনিক খবরের কাগজ তিনি পড়তে পড়তে দরজার দিকে বার বার তাকালেন,তার মেয়ে তাকে চা দিবার কথা। এত দেরি কেন হচ্ছে এক কাপ চা দিতে ,তিনি খানি্কটা বিরক্ত নিয়ে দরজা দেখেছেন বারবার।
একটা চিৎকারের শব্দ হল। তিনি খবরের কাগজ থেকে মাথা উঠিয়ে শব্দের যেদিক আসছে সেদিকে তাকালেন। তিনি অবাক বিস্মিত হলেন। কারন শব্দ উনার বাসার ভিতর হচ্ছে। তিনি মেয়ের গলা চিনতে পারলেন। তিনি শুনতে পেলেন ,মেয়ে প্রচন্ড জোরে চিৎকার করছে। তিনি উঠতে গিয়েও প্রথমে পারলেন না। তিনি ও জোরে জোরে বলেলন ,' কি হয়েছেরে মা? কি হয়েছে?' বলে তিনি খুব কষ্ট করে নিজেকে টেনে নিয়ে গেলেন। কোন রকম ঘর ছেড়ে তিনি ডাইনিং রুমে আসতেই প্রচন্ড হতবাক হয়ে দেখলেন, মেয়ের চুলে শেষটায় আগুন লেগে গেছে। সম্ভবত চুলা থেকে। পড়নে সিল্কের কাপড়ে আগুন লেগে গেছে। যাবার জন্য তৈরি হয়ে শেষে বাবার জন্য যায়নি মেয়ে। পড়নে তাই সিল্কের পোশাক।
তিনি কি করবেন,কিচ্ছু বুঝতে পারছেন না। তিনি দেখলেন মেয়ে একবার একদিক থেকে অন্যদিক ছোটাছূটি করছে। দৌড়ানোর কারনে তাতে বাতাসে অক্সিজেনে আরো আগুন যেন বেড়ে যাচ্ছে। তিনি তা বুঝতেই মেয়ে কে থামতে বললেন। কিন্তু মেয়ের কানে সেই কথা যেন পৌছাল না। তিনি দেখতে লাগলেন,' মেয়ে বাবা গো ,বাবা গো ,ও বাবা !' বলে দৌড়াচ্ছে আর লাফাচ্ছে। তিনি দৌড়ে কমন বাথরুমে ঢুকলেন। কল ছাড়লেন ,শাওয়ার ছাড়লেন , পানি নেই। এক ফোটা পানি নেই। মনে পরল বিদ্যুৎ নেই। বাসায় ছোট বাচ্চা আছে বলে বালতিতে পানি ভরে রাখা হয়না। তিনি পানির জন্য চারদিকে তাকালেন। কিন্তু ঘরে পানি আছে কিনা মনে করতে পারলেন না। জগটা দেখতেই তিনি হাতে নিতে গেলেন কিন্তু হাত কাঁপছে। জগটা ধরতে যেতেই হাত থেকে জগ মাটিতে পরে যেটুকু পানি ছিল ভেসে যেতে দেখলেন।
তিনি চিৎকার করতে করতে দৌড়ে দরজা খুলে বিল্ডিং এর অন্য সবাই কে ডাকতে লাগলেন। অনেক অনেক মানুষ এল। রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিল তারাও দৌড়ে এল। এল উপর তলা আর নীচ তলার মানুষ ,পাশের বাসার মানুষ।কিন্তু আগুনের কথা শুনেও কেউ খুব বেশি পানি নিয়ে আসতে পারলনা। কারন বিদ্যুৎ নেই, তাই পানির ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। সবাই হা করে দেখার চেষ্টা করছে। তিনি চিৎকার করে আগুনে পুড়তে থাকা মেয়ে একবার আর মানুষদের একবার দেখতে লাগলেন। তার বাসার সাথে তিন পাশেই বাড়ি। তিনি দেখলেন, অগুনিত মানুষ তাকিয়ে আছে ফ্যাল ফ্যাল করে যে যার জানালা আর বারিন্দা দিয়ে। তিনি দেখলেন পিছনের বাড়ির ভদ্রলোক বালতিতে পানি হাতে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু দিবে কিভাবে? পানি দিতে হলে সাড়া রাস্তা ঘুরে আসতে হবে। তিনি চিৎকার করে বলতে লাগলেন' আমার আদরের মেয়েটা আগুনে জ্বলে যাচ্ছে। একফোঁটা পানি হলেও দেন।'
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যখন এল তখন ঘর ভর্তি মানুষ, মেয়ে শুয়ে আছে মাটিতে। বাবা বসে আছে পাশেই একটা চেয়ারে। আগুনে পুড়ে মরে গেছে মেয়ে,যেন কয়লা হয়ে গেছে। বাবা পাথর হয়ে তাকিয়ে আছে,তাকিয়ে আছে পাথর হয়ে সকল প্রতিবেশী। যে প্রতিবেশির মুরব্বীরা প্রায়ই বলত ,মেয়েটা দিন দিন বড় হচ্ছে আর সুন্দর হচ্ছে, নজর না লেগে যায়।'
----------------- -----
প্রতিকারের প্রস্তুতি ঃ আসুন কিভাবে আমরা লড়াই করব আগুনের বিরুদ্ধে তা নিয়ে আমি যে আইডিয়াগুলো নিয়ে ভেবেছি তা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। ধরা যাক যদি গল্পের ঘটনার মধ্যে সেই দিন আমরা থাকতাম। আর আমার আইডিয়াগুলো সাথে থাকত। তবে আমরা দেখব ,সেখানে কি ঘটতে পারত।
কি কি থাকা উচিত আমাদের,কি কি করা উচিত আগুন লেগে গেলে, সে নিয়ে আমাদের জানা থাকাটা খুবই দরকার। জানাটাই জ্ঞান। আর জ্ঞান মানেই সাহস। আমরা যদি নৌকা চালাতে অভিজ্ঞ হই তবে ছোট নৌকা নিয়ে সমুদ্রের অনেক গভীরে যাবার সাহস পাব। একটুও ভয় লাগবে না। আর যদি নৌকা চালাতে না জানি,সাতার না জানি তবে ছোট্র পুকুর কেন সুইমিং পুলেও ভয় আছে।
গল্পে ভদ্রলোক যখন মেয়ের গায়ে আগুন দেখলেন। তখন তিনি প্রথম গেলেন বাথরুমে। সেখানে পানি ছিল না। কলে পানি ছিল না।কারন বিদ্যুৎ না থাকায় উপরের টাংকি পানি উঠানো যায়নি, যা পানি ছিল তা ফুরিয়ে গিয়েছিল। উনার প্রথমে যে কাজটি করার প্রয়োজন ছিল তা হচ্ছে ঘরে ভিতর যেখানেই পানি ছিল তা ব্যবহার শুরুতেই করা। পানি জারে, জগে,বালতি ,পাতিলে যেটুকু পানি তখন ছিল তাতে মোটা তয়লা বা চাদর ভিজিয়ে নিয়ে তা দিয়ে মেয়ে কে জড়িয়ে ধরা। এতে পানি ঢালার চেয়ে বেশি কাজ হত বা কম পানি থাকলেও দ্রুত আগুন থামানো যেত বা যারা এসেছিলেন তারা অল্প অল্প পানি আনলেও সেই পানিতে তোয়ালা বা চাদর বা কাপড় ভিজানো সম্ভব হত। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকয়,সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় কেউ বুঝতে পারছিল না, কি করবে। আসলে শুরুতে ব্যবস্থা নিতে হয়। কারন শুরুতে আগুনে ক্ষতিটা সামাল দেওয়া যায়। ধীরে ধীরে ক্ষতির বিষয়টা বাড়তে থাকে।
যাই হোক আগুন লাগলে আমাদের দরকার প্রথমে পানির। আমি কিছু ছবি দিচ্ছি। কেন দিচ্ছি তা জানাব ছবির নীচের লেখাগুলোর মধ্যমে। আসুন ছবির ভিতরে চলে যাই। তবেই আমরা পথ পেয়ে যাব ইনশা আল্লাহ।
একটি সাধারন বাওথরুমের ছবি আঁকলাম।
উপরের ৪টি ডিজাইন একটি সাধারন বাথরুমের। ১নং পাইপ ( জি আই পাইপ বা ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের পাইপ ) দিয়ে ছাদের পানির টাংকি থেকে পানি নেমে আসছে। ২নং টি হচ্ছে পানি নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি কল বা চাবি। সব বাসা বাড়িতে তাই থাকে। কোন কারনে ছাদের পানির টাংকি খালি হয়ে গেলে ,তা কারেন্ট চলে যাবার জন্য হোক বা কোন কারনে পানি উঠানো সম্ভব আর না হলে ,যিনি গোসলে থাকেন তিনি বিপদে পড়ে যান বা আমাদের এই গল্পের মতন বিপদ হলে কিছুই করার থাকে না।
নতুন আইডিয়াঃ আমি তাই এই বিষয়গুলো নিয়ে নতুন আইডিয়ার কথা ভাবতে ভাবতে একটি আইডিয়া খুজে পেয়েছি। এবার আমার সেই নতুন আইডিয়ার দুনিয়ায় চলুন।
আমরা সাধারন সেই বাথরুমের উপরের ফলসিলিং এ যুক্ত করছি একটি সাধারন মানের বালতি। মানে এক বালতি পানি হলেও পানির সব সময় পাবার জন্য একটি বুদ্ধি।
আমরা বাথরুমের ফলসিলিং এর উপর একটি বালতি রাখলাম। ছাদের পানির টাংকির থেকে পানির পাইপ নেমে বালতিতে যোগ করলাম। আর একটি পাইপ যোগ করলাম নীচে পাইপের সাথে। যা বাথরুমে ঢুকেছে এবং দুই পাইপের শুরুর আগে কল বা চাবি থাকবে। যখন বালতি অনেক দিন পর পর পরিস্কারের দরকার হবে তখন কল বন্ধ করে তা নামিয়ে আনা যাবে। ফলে ঘটনা কি দাঁড়াল? আমারা আমাদের প্রত্যেক বাথরুমে সাধারন মানের মিনি টাংকি বা পানির ছোট্র টাংকি পেয়ে গেলাম। ফলে সব সময় এখানে পানি জমে থাকবে। যখন তখন কারেন্ট গেলে এক বালতি পানি থেকে যাবে। আর আমাদের গল্পের ঘটনা ঘটলে এক বালতি পানি পাওয়া যাবে। বিপদে অনেক বড় কাজে আসবে। অনেক অনেক বড় কাজে আসবে। ১নং পাইপ। ২ নং কল বা চাবি। ৩নং বালতিতে পানি। ৪নং নরম ফ্লাজি পাইপ।
বালতির মুখে একটি প্লাস্টিকের নজেল লাগানো থাকবে। ( আমার কাছে পাতলা নজেল নেই বলে দেখানোর জন্য এই ছবিটি দিলাম। )
নতুন আইডিয়ায় তৈরি করা বালতির সাথে যুক্ত থাকা এই ধরনের নজেলের সাথে এই ভাবে পাইপ উপরে নীচে লাগাব। যাতে পাইপ টি যখন তখন খোলা যায়। কারন যে কম্পানি বালতি বানাবেন তারা কেবল প্লাস্টিকের নজেল যুক্ত বালতি কেবল বানাবেন। বাথরুমের সুবিধা মতন আমরা এই ধরনের ছোট বড় নরম পাইপ লাগিয়ে নিব।
বাতলি থাকবে বাথরুমের ফলসিলিং এর উপর।
এই ভাবে আমি আমার নতুন আইডিয়া তুলে ধরলাম আমাদের দেশ আর বিশ্ববাসীর কাছে। আশা করি এই নতুন সাধারন মানের আইডিয়াটি পানি না থাকার সমস্যায় নতুন একটা সুবিধা দিবে আমাদের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ রইল বা আবেদন রইল যে, এই নতুন বালতিটি বানানোর বিষয়টা।
এবার আবার গল্পে ফিরে যাই। আমরা আগুন লাগার শুরুতেই এক বালতি বা অর্ধেক বালতি পানি পেয়ে গেলাম। যে পানিতে তোয়ালা বা চাদর সাথে সাথে ভিজিয়ে ভদ্রলোক আগুন গায়ে লাগা মেয়ে কে জড়িয়ে ফেলতে পারতেন। তাতে শুরুতে ব্যবস্থা নিতে পারলে ক্ষতিটা কমে আসবে সব সময়।
এবার আরেকটি বিষয় ধরা যাক যার গায়ে আগুন লেগেছে ,সেই আগুন ঘরের ভিতর ছড়িয়ে গেছে। সেই আগুন জানালার পর্দা বা কোন জিনিসে লেগে আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। আগুনের ধর্ম হল ২ থেকে ৪ । ৪ থেকে ৮ । ৮ থেকে ১৬ । ১৬ থেকে ৩২ । যেন মিনিটে ২,৪,৮,১৬,৩২,৬৪,১২৮ ,২৫৬ হয়ে যায়। দ্রুত থেকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পরে চারদিকে। সেই সময় বাথরুম থেকে কল দিয়ে মগে করে বা জগ বা বালতি দিয়ে পানি নিয়ে আগুনের কাছে যেতে যেতে সেকেন্ডের কাঁটা দ্রুত হাঁটা শুরু করে কিন্তু কল দিয়ে পানি ভরতে ভরতের আগুন দ্বিগুণ হবার খেলায় মেতে উঠে। তাই প্রত্যেক মুহূর্ত দামী। প্রতিটি সেকেন্ড দামী। দ্রুত আগুন নিভাতে যত অধিক পানির ব্যবহার করতে পারব ততো তাড়াতাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে আসবে। আসুন এই নিয়ে আমাদের কি করতে পারি, সেই আইডিইয়া নিয়ে আমি যা ভেবেছি তা শেয়ার করি।
আমাদের প্রত্যেকের বাসায় একটি পানির পাইপ থাকতে হবে। লম্বায় যা ১০গজ হলে খুব ভালো হয়। মানে ৩০ ফিট। এই পাইপ টি বাথরুমের ফলসিলিং এ উঠিয়ে রাখা যায় বা এমন কোথাও নিরাপদ স্থানে।
কিন্তু একটি পাইপে যে পরিমান পানি আসে বা উচ্চতায় উঠতে পারে বা দূরে গিয়ে পরে। তার চেয়ে দ্বিগুণের চেয়ে অনেক বেশি দূরে বা উচ্চতায় পানি নিক্ষেপ করা সম্ভব হয় যখন সেই পাইপের মুখে একটি মিনি শাওয়ার এটাচম্যানের মুখটা লাগিয়ে নিলে। আমরা তাই পাইপ কিনলে ১০০টাকা খ্রচ করে হলেও এটি লাগিয়ে নিব।
গল্পে ঘটনার সময় পাশের বাড়ির কার কাছে যদি ১০ গজের পাইপ থাকত। তবে আমরা গল্পে দেখতে পেতাম পিছনের বাসার যে ভদ্রলোক পানি ভর্তি বালতি হাতে দাঁড়িয়ে না থেকে এমন পাইপ পাশের বাসায় দিয়ে উনার বাসার পানি পাশের বা দুরের বাসায় পৌছে দিতে। ধরা যাক ১০গজের এমন পাইপ যদি প্রতি ফ্লোরের বাসিন্দাদের কাছে থাকে তবে ৫০০ হাত দুরের বাড়িতেও আগুন লাগলে পাইপ সংযোগ করে করে সাহয্য করতে লাগবে বড় জোর ৩/৫ মিনিট। যেখানে ফায়ার ষ্টেশন থেকে যে কোন গাড়ি জ্যামের শহরগুলোতে যে জায়গায় পৌছাক ,সময় নিবে ১৫/২০ মিনিটের উপর। তার মানে শুধু সামাজিক বন্ধনের চেষ্টার মধ্য দিয়ে আগুন লাগার প্রথমিক সময়ে আমরা নিজেরা আগুন কে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে পারি। আমাদের আগুন দেখে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে হবে না। এখানে একটি জিনিস বলতে হচ্ছে পাইপের মুখে ৪/৬ ইঞ্চি জি আই পাইপের টুকরো ঢুকানো থাকতে হবে। যার মুখে প্যাচ কাটা থাকবে। মানে আমি ইচ্ছে করলে নীচের ছবির মাথাটি লাগিয়ে নিতে পারব যখন তখন বা অন্য একটি পাইপ যুক্ত করতে পারব। কার বাসায় যদি ১০ গজের পাইপ রাখায় অসুবিধা হয় তবে তিনি ১/২ গজ আর ৮ গজ এই ভাগে পাইপ টি জোড়া লাগার সুযোগ রেখে ১/২ গজের পাইপটি হাতের কাছে রাখতে পারি। আর বাকিটা উঠিয়ে রাখতে পারি আমরা।
প্রত্যক বাসায় কমন বাথরুমের একটি কল এই রকম সিস্টেমের হলে ভালো হয়। যাতে বিপদে খুব দ্রুত পাইপের মুখ টা লাগানো যায়। তাতে বিপদের সময় তাড়াহুড়ার মধ্যে টান লেগে পাইপ খুলে যাবে না। আর এই কল যদি না থাকে তবে কলের মাথায় পাইপ ঢুকিয়ে দিতে হয়ে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যাতে টান লেগে খুলেও না যায়। মনে রাখতে হবে প্রতিটি সেকেন্ডের মুল্য আগুন লাগার সময় অনেক। এই কল না থাকলে কাউকে না কাউকে কলের সামনে থাকতেই হবে।
বাসায় আগুন লাগলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করা খুবই জরুরী। বিষয়টা নিয়ে পরিবারের সকল ছোট বড় সদস্যদের সাথে আলাপ করে রাখুন। আল্লাহ না দেন এমন বিপদ ,যদি এমন কোন বিপদ এসে যায় তখন আপনি ভুলে গেলেও ছোট বড় সদস্যদের কেউ একজন দেখবেন ঠিকই মনে রাখবে।
আগুন লাগলে আপনার ডি বি বোর্ড থেকে সার্কিট বেকার গুলো বা সার্কিট বেকারটি বন্ধ করে দিন। মনে রাখবেন ডি বি বোর্ড টি ৭ ফিটের নীচে রাখবেন বা ৬ ফিটের মধ্যে রাখবেন। যদি আপনার বাসায় তা ৭ ফিটের উপরে বা দরজার উপরে লাগানো থাকে। বা ডি বি তে ( মেইন/ মাষ্টার ডিস্টিবিসন বোর্ডে ) সার্কিট বেকার না থেকে মেনুয়াল চিনামাটির কাট আউট লাগানো থাকে। তবে তা থাকুক। আপনি বাসার ছোটদের কথা আর বুয়ার কথা বিবেচনা করে আরেকটি একক একটি সার্কিট বেকার বা মেইন সুইচ ৬ ফিটের মধ্যে লাগিয়ে নিবেন। কারন বিপদ হলে ৭ ফিটের উপর ডি বি তে হাত দেওয়া সম্ভব হয়না। তা ছাড়া বিপদ সন্ধ্যার পরে হলে অন্ধকারে চট করে চেয়ার খুজে পাওয়া যাইয় না। আর চেয়ার থেকে পড়ে যাবার ভয় ত থাকেই। ( ছবিতে আমাকে আর আমার ৯ বছর বয়সী মেয়ে কে দেখতে পারছেন। এই বয়সে ডি বি বক্স তার হাতের নাগালে ভিতর আছে )
আগুন লাগলে কি করতে পারি এ নিয়ে ভাবতে ভাবতে এই সব আইডিয়াগুলো খুজে পেয়েছি। আমি আমার দেশ কে ভালবাসি। ভালবাসি বিশ্ব কে। ভালবাসি মানুষ কে। তাই আগুনে পুড়ে মানুষ যাতে কষ্ট না পায় ,তাই এই সব ভাবনা আর নতুন আইডিয়া খুজে বেড়াই। আগামীতে আরো আইডিয়া নিয়ে আসব আগুন থেকে রক্ষার বিষয় নিয়ে ইনশা আল্লাহ।
Subscribe to:
Comments (Atom)

